কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যদের সম্মানে একটি ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এই অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত নেপালের জনগণকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি এই নির্বাচনকে দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং নেপালের জনগণের প্রত্যাশা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে, তিনি নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত নতুন সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সুদৃঢ়করণ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাবার ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের সমন্বয়ে নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়। এতে ১৮টি দূতাবাসের মিশন প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, মিশর, ভারত এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত/সিডিএ এআইগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সার্কের মহাসচিব, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি এবং নেপালে আইএলও-এর প্রধানও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
