শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’ চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরপরই কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার কাতারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অস্থির পরিস্থিতিতে কাতার তার বাসিন্দাদের সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি যেতে নিষেধ করেছে এবং বাড়িতে অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি, তবে বিদ্যমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোহা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাতার সরকার শনিবার সারাদেশে মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যেখানে সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং খামেনিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এছাড়া, সৈয়দ খান্দান এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদসংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশেপাশে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন যে, তাদের দেশের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে এই পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে আসছিল যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখে, তবে তারা আবারও হামলা চালাবে। একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

