গতকাল বুধবার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শহীদ সদস্যদের ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে নতুন সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এর প্রায় ৭০টি সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের এই দিনে স্মরণ করা হয়। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সব মসজিদে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

