ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, তিনি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিতে আগ্রহী নন। তবে তিনি কালীগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতার অভাব এবং ঝিনাইদহে ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুলাল মুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এই মাহফিলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয়।
দুটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, ওই দুটি পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়েছে যে, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কালীগঞ্জের তৃণমূল বিএনপি অনড় এবং রাশেদ খান চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রকাশিত এই সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকার জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করলে, প্রতিনিধি কালীগঞ্জের একজন অনলাইন প্রতিনিধির তথ্য দেন। সেই অনলাইন প্রতিনিধির কাছ থেকে জানা যায়, নাম-পরিচয়বিহীন এক ব্যক্তি সংবাদটি পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি সেটি প্রকাশ করেছেন।
রাশেদ খান জোর দিয়ে বলেন, তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশে তার কোনো আপত্তি নেই, তবে সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী তার মন্তব্য গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, “আপনাদের আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশে আপত্তি নেই। কিন্তু আমার মন্তব্য তো নিতে হবে। আমাকে নিয়ে নিউজ করতে হলে আমার মন্তব্য নেবেন। এটাই সাংবাদিকতা।”
একই বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই ধরনের সাংবাদিকতা কীভাবে করা হলো, তা তিনি জানতে চেয়েছেন। রাশেদ খানের মতে, এই ধরনের সাংবাদিকতা কালীগঞ্জে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতাকে বস্তুনিষ্ঠ, সত্য ও ন্যায়পরায়ণ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির এই প্রার্থী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিচ্ছেন না বা দিতে চান না। তার দাবি, তাকে নিয়ে যেকোনো সংবাদ পরিবেশনের আগে অবশ্যই তার মন্তব্য নেওয়া আবশ্যক।
দলীয় প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে, কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতা অন্যান্য দলের তুলনায় বেশি। তিনি সকল নেতাকর্মীকে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, কোনো বিএনপি নেতা যদি দলের আনুগত্য মেনে না চলেন, তাহলে দল থেকে ছিটকে গিয়ে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন হতে পারে, যেমনটি অতীতে অনেক বড় নেতার ক্ষেত্রে হয়েছে।
দোয়া মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, ইসরাইল হোসেন, এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন।

