নরসিংদীর মাধবদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানও রয়েছেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মাধবদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগ উঠেছে যে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ার কারণে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর পুনরায় ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সরিষাক্ষেত্রে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মাধবদী কোতয়ালীরচর এলাকার আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), ধর্ষক নুরা’র চাচাতো ভাই এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০) এবং গাফফার (৩৪)।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তিনি ধর্ষকসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে ধর্ষক নুরাসহ সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কিশোরীর বাবা আশরাফ হোসেন বরিশাল থেকে কাজের সূত্রে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নুরা’র নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে নিহতের পরিবার মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের শরণাপন্ন হন। সেখানে ধর্ষক ও তার সঙ্গীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করার চেষ্টা করে। রফাদফা না হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন কাজ শেষে মেয়েটিকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরাসহ আরও পাঁচজন তার কাছ থেকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রাতভর মেয়েটির খোঁজ পাননি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বাবা মো. আশরাফ জানান, নুরা’র নেতৃত্বে ৫-৬ জন তার সামনে থেকে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। সকালে তারা মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। তিনি মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

