বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত ‘মব-কালচার’ বা জনরোষ সংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক সূচনা। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মতামত জানান।
পোস্টে জামায়াত আমির উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং তাঁর উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এমনভাবে অপমান করার অধিকার কারো নেই। তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কারণে ইতিমধ্যেই দেশের অর্থনীতি চরম দুরবস্থায় পড়েছে, দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব বিদ্যমান। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ চলতে থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ তৈরি করে দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিভিন্ন অপতৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াত আমিরের দাবির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। তিনি আরও লেখেন যে, একইসঙ্গে দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

