চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ সম্মান ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করেছে। এই আয়োজনে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ এবং আমন্ত্রিত চীনা অতিথিরা অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এই পতাকা উত্তোলন করেন এবং এরপর দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দূতাবাসের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।
আলোচনা পর্বে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনকে শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ না বলে বরং বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। ইয়ু গুয়াংয়ু উল্লেখ করেন যে, চীনে বাংলা ভাষার প্রচারে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং এই দিবসটি তাদের আরও অনুপ্রাণিত করছে।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার ভাষণে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই বাঙালিদের মধ্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায়, যা পরবর্তীকালে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। তিনি প্রবাসীদের প্রতি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতারের আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

