শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। আগামী রবিবার এনটিআরসিএ’র কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীকে এনটিআরসিএ’র চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা হতে পারে।
এনটিআরসিএ সূত্র অনুযায়ী, আগামী রবিবার সকাল ১০টায় এনটিআরসিএ’র কার্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল মিলন ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত থাকবেন। সেখানে এনটিআরসিএ’র সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় যেসব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পদ্ধতি, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা এবং এনটিআরসিএ’র চলমান মামলাসমূহ। এসব বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা চাওয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীকে জানান, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের বিপক্ষে পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করার দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। এছাড়া, নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য চলমান ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম এবং ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা উঠবে। শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে এনটিআরসিএ’র সামগ্রিক কার্যক্রম ও চলমান অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত করা হবে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা আসছেন। এনটিআরসিএ’র সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম প্রবেশ পর্যায়ের শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার দায়িত্ব ২০১৫ সালে এই সংস্থাকে দেওয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ১নং আইন)-এর ১০নং ধারা অনুযায়ী এনটিআরসিایকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আইনের ২১ ধারার আলোকে প্রণীত বিধিমালার মাধ্যমে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করে যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যয়নপত্র প্রদান করে থাকে।

