বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়সহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পিবিআই কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ১১৩ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত রয়েছে।
মামলার সূত্র অনুসারে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে সাহেদ আলী নামের এক ব্যক্তি আহত হন। ঐ ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের ভাই দাবীদার শরীফ নামের এক ব্যক্তি ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে থানা-পুলিশ তদন্তকালে ৪ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এই মামলার তদন্তে পিবিআইর পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ তথ্যগত ভুলের কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ সকল ১১৩ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহতদের বিষয়ে একটি গেজেট প্রকাশিত হলেও এই মামলায় উল্লিখিত আহতদের নাম সেই গেজেটে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি পরবর্তীতে আহতদের তথ্য পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মামলার এজাহারে সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার এবং সাম্মি আক্তারকে আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এই ব্যক্তিদের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলা তদন্তে বাদী শরীফের কাছ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজারীবাগে বাদীর ভাড়া বাসায় একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে বাড়ির মালিক জানিয়েছেন যে, শরীফ নামের কাউকে তিনি চেনেন না এবং ঐ ঠিকানায় তিনি বসবাস করেন না। পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করা হয়, যিনি লক্ষ্মীপুর সদরের ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের পুত্র।
ঐ ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও শরিফুল ইসলামকে কেউ চিনতে পারেননি। তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়, তবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কখনও খোলা, কখনও বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করার অনুরোধ করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আহতদের হাজির করতে বা কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সরবরাহ করতে পারেননি। এজাহারেও চিকিৎসা সম্পর্কিত কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। মামলার কোনো সাক্ষীরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

