সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমেদ খান কর্মীদের সৃষ্ট বাধায় তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি। তাকে জামায়াত কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ছয় ঘণ্টা পর তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। এই তথ্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে নিজেই নিশ্চিত করেছেন অবরুদ্ধ প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জ শহরের হাছনগরে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ের ভেতর সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার সমর্থক ও কর্মীরা তাকে কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে। রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবরুদ্ধ ছিলেন।
এ সময় তার কর্মীরা জানান, শুধুমাত্র নিজ দলের কর্মীরাই নন, এই আসনের সাধারণ ভোটাররাও তোফায়েল খানকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। জোটের পক্ষ থেকে যিনি প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন, তাকে কেউ চেনেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ্ জানান, সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমেদ তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য রওনা হলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য নেতাদের কক্ষের বাইরে থেকে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। এই কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তোফায়েল আহমেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার সম্ভব হয়নি।
তবে সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, যাতে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই তাকে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং পুরো কার্যালয় তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করছেন বলে জানান।
এই আসনে ১০ দলীয় জোট বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদারকে (বই প্রতীক) প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরস্বতীপুর গ্রামে।
নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার ঢাকা পোস্টকে জানান, তিনি নিজ দলের কেন্দ্রীয় নেতা, সিলেট মহানগরের আমির এবং সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক। তাকে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে। জামায়াতের জেলা আমির কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু তারা জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে যুক্ত, তাই এ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ খান এবং তার কেন্দ্রীয় নেতারা বিস্তারিত বলতে পারবেন। এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।

