সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিয়ন) জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট এবং এক খণ্ড জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সহধর্মিণী কামরুন নাহার-এর নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলমের নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত ৩৫ শতক জমি এবং ঢাকার মিরপুরের ১ হাজার ৩৮৫ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটটি জব্দ করা হয়েছে। অপরদিকে, তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে দুটি ব্যাংকের চারটি শাখায় খোলা সাতটি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমা রয়েছে, যা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা তার আবেদনে এই তথ্যের উল্লেখ করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে যে, জাহাঙ্গীর আলম ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়াও, তিনি এবং তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আটটি ব্যাংকের ২৩টি হিসাবে মোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্তকালে এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তা ক্রোক বা জব্দ করা প্রয়োজন।
কামরুন নাহারের বিষয়ে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি সঞ্চয়ী ও ডিপিএস হিসাবের মাধ্যমে ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন করেছেন। দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে কামরুন নাহারের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থ হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন মর্মে আদালতে আবেদন জানানো হয়।

