গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এক তরুণীকে যৌন হেনস্তা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পাওয়ার একদিন পরই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা। তার অভিযোগ, গত মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পরপরই নোবেল তাকে মারধর করেন। নোবেলের জামিন বাতিলের বিষয়ে পরামর্শ নিতে তিনি মা ও ছোট বোনকে নিয়ে আদালতে এসেছিলেন।
অনন্যা জানান, নোবেল কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছেন। কিন্তু জামিনের পর তাকে বাসায় নিয়ে পুনরায় মারধর করা হয়। নোবেল তাকে মারধরের সময় জিজ্ঞাসা করেন যে, কেন তিনি নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অনন্যা এ সময় সাংবাদিকদের তার হাতে থাকা ক্ষতের চিহ্ন দেখান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মিডিয়ার সামনে ও মিডিয়ার বাইরের নোবেল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি তাকে ভালোভাবে চিনি। সে নেশাগ্রস্ত হলেও নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে।”
অনন্যার মা বিবি কুলসুম বলেন, নোবেল মিষ্টি কথা বলে জামিন নিয়েছিলেন, কিন্তু জামিনের পর তার আচরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং তিনি আমার মেয়েকে আবার মারধর করেন। কুলসুম জানান, তিন বছর আগে নোবেলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়, যা অপ্রাপ্তবয়স্কতার কারণে প্রকাশ করা হয়নি। নোবেল নিজেও আদালতে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জামিনের পর নোবেল অনন্যাকে তার বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে মারধর করেন। গতকালও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে বলে জানান। তারা জানান, শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
অনন্যা ও তার মা বিবি কুলসুম আরও জানান, নোবেল তাদের হুমকি দিয়েছেন যে বাড়ির বাইরে বের হলে ‘দেখে নেবেন’। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট অনন্যা নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার সহকারী মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত নোবেল অনন্যাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া, বাদীকে আটকে রেখে যৌন হেনস্তা এবং আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই কাজে অন্যান্য আসামীরা তাকে সহযোগিতা করেন।
পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৭ জানুয়ারি পাঁচ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
গত সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ নোবেলকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন, মঙ্গলবার, তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। ওই দিন আদালতে অনন্যা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে আপস হয়। বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে বিচারক বাদীকে আপসের কথা জানতে চাইলে অনন্যা ইতিবাচক সাড়া দেন। পরে বিচারক তাদের উভয়কে আপস চান কিনা জিজ্ঞাসা করলে উভয়ই বলেন, তারা আপস চান। নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপসের কথা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ১ হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, নোবেল বিয়ে করবেন এই শর্তে বাদী ওইদিন জামিনের বিরোধিতা করেননি। আপসের শর্তে আসামী জামিন পান। কিন্তু বাদী নোবেলের সঙ্গে তার বাসায় গেলে নোবেল তাকে সারারাত মারধর করেন, যার ফলে তিনি বেহুঁশ হয়ে যান। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন বাদী নোবেলের জামিন বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

