নেপালের সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পরিচিত মুখ সুদান গুরুং এবার সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। কে পি শর্মা অলি সরকারের পতনের পেছনে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ নেতা জানিয়েছেন, আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি ও তার অনুসারীরা লড়বেন এবং এ লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলছেন।

এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী গুরুং বলেন, দেশের ‘স্বার্থপর’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ রাজনীতিকরাই তাদের রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করেছেন। তিনি বলেন, “তাঁরা আমাদের রাজনীতিতে টেনে এনেছেন। যদি তাঁরা রাজনীতিই চান, তবে তা–ই পাবেন। আমরা পরবর্তী নির্বাচনে লড়ব। কারণ, আমরা এখন পিছু হটব না।” প্রচলিত রাজনৈতিক দলের বাইরে ‘পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা জানিয়েছেন তিনি, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে সমর্থকদের সংগঠিত করা হচ্ছে।

গুরুং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একা লড়ার পরিবর্তে ‘দলবদ্ধভাবে’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কেবল এককভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তাহলে আমরা তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারব না। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী।” দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডার পাশাপাশি তাদের পরিকল্পনায় নেপালের পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ ছাড়া সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ও রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের জেরে শুরু হওয়া যে বিক্ষোভ অলি সরকারের পতন ঘটায়, তা দ্রুতই দুর্নীতি ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। সেই আন্দোলনে কয়েক ডজন তরুণ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির প্রতি একটি স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন গুরুং। তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত চেয়েছেন। তার কথায়, “আমরা দেখতে চাই, তদন্ত সঠিকভাবে ও সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে, যাতে তাঁরা (পুরোনো নেতারা) নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।”

নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য এখনই ‘সঠিক ব্যক্তি’ মনে করেন না জানালেও গুরুং বলেন, “কিন্তু জনগণ যদি আমাকে বেছে নেয়, আমি অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।” একইসঙ্গে তিনি তাকে চুপ করানোর চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তবে এসব হুমকি তাকে দমাতে পারেনি উল্লেখ করে গুরুং বলেন, “আমি ভয় পাই না…শুধু আমাকে হত্যা করে কিছুই হবে না। আমাকে আমার দেশকে বাঁচাতে হবে। কারণ, এখনই সময়, নইলে আর কখনো নয়।”

Exit mobile version