Saturday, September 12

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সুপার ওভারের চতুর্থ বলে এক নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়, যা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার পর্যন্ত সবাইকে বিভ্রান্ত করে। দাসুন শানাকা নিশ্চিত রান আউট হলেও ক্রিকেটের এক বিশেষ আইনের কারণে বেঁচে যান।

ঘটনাটি ঘটে ভারতীয় পেসার অর্শদীপ সিংয়ের একটি ইয়র্কারে। শানাকা বলটি খেলতে ব্যর্থ হলে উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসে জমা হয়। অর্শদীপের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশি আম্পায়ার গাজী সোহেল কট বিহাইন্ডের সিদ্ধান্ত দেন।

তবে আম্পায়ার আঙুল তোলার পরপরই দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমত, শানাকা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেন। দ্বিতীয়ত, স্যামসনের হাতে বল থাকতেই তিনি রান নেওয়ার জন্য দৌড় দেন। স্যামসন দ্রুত আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দিলে শানাকা ক্রিজ থেকে অনেক দূরে ছিলেন।

রিভিউতে আলট্রা এজে দেখা যায়, বল শানাকার ব্যাটে লাগেনি। ফলে কট বিহাইন্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। কিন্তু এরপরও রান আউটের বিষয়টি বিবেচনায় আসেনি। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, আম্পায়ার কোনো ব্যাটসম্যানকে আউট ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই ওই ডেলিভারিটি ‘ডেড বল’ হিসেবে গণ্য হয়।

আইসিসির ২০.১.১.৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, আম্পায়ার আউট দিলেই বল ডেড হয়ে যায়, এমনকি পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হলেও বলের স্ট্যাটাস বদলায় না। যেহেতু গাজী সোহেল রান আউটের আগেই কট বিহাইন্ডের সিগন্যাল দিয়েছিলেন, তাই ডেলিভারিটি ডেড হয়ে যাওয়ায় রান আউটটি বাতিল হয়ে যায়।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বল ডেড হয়ে যায় এবং এ কারণেই শানাকা রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন।

অবশ্য এই জীবন পেয়েও শানাকা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনি পরের বলেই অর্শদীপের শিকার হন। সুপার ওভারে শ্রীলঙ্কা মাত্র ২ রান করতে সমর্থ হয় এবং সূর্যকুমার যাদব এক বলেই ৩ রান নিয়ে ভারতকে জয় এনে দেন।

Exit mobile version