জার্মানিতে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন লাভ করেছে। এর ফলে প্রস্তাবটি এখন সংসদে আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) দ্রুত এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) তাদের দলীয় সম্মেলনে গত রোববার এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এসপিডি’র সাধারণ সম্পাদক টিম ক্লুসেনডর্ফ গত রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োজন। তিনি জানান, তাদের দল ইতোমধ্যে একটি সর্বনিম্ন বয়সসীমা নির্ধারণ এবং কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছে। দলটির সংসদীয় দলের নেতা ডির্ক ভাইসে উল্লেখ করেছেন যে, বুন্ডেসটাগে (জার্মান পার্লামেন্ট) দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট আইন পাস করা উচিত। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তিমূলক অ্যালগরিদম এবং হয়রানি (বুলিং) শিশু-কিশোরদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে অনুষ্ঠিত দলীয় সম্মেলনে সিডিইউ ১৪ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে। তাদের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে একটি নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এই নিয়ম অমান্য বা অবহেলা করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। তবে, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য কী ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে সিডিইউর অবস্থানে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে।

এসপিডি ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশেষ ‘যুব সংস্করণ’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংস্করণগুলোতে অন্তহীন স্ক্রলিং-এর মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে, সেই প্রশ্নটি এখনো সুরাহা হয়নি।

শিশু ও কিশোর চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে অনেক তরুণের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফেডারেল স্টুডেন্টস কনফারেন্সের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের জন্য তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো আরও বেশি জরুরি।

Exit mobile version