বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি বিশেষভাবে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে প্রশিক্ষিত কর্মীদের প্রেরণে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। একইসাথে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের পদপ্রাপ্তিতে থাইল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতকে তাঁর নতুন নিয়োগের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। এর প্রত্যুত্তরে, রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে থাইল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্রমবর্ধমান বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলোচনায় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড এখনও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্যতম প্রধান গন্তব্য।

রাষ্ট্রদূত জানান যে, দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা থাইল্যান্ডে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর আয়োজিত হবে। উভয় পক্ষই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে যে, এই বৈঠকটি চলতি বছরে উচ্চ পর্যায়ের সফরের পথ সুগম করবে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যমান শুল্ক বাধা অপসারণের ওপর জোর দেন, যা সুষম বাণিজ্য উন্নয়নে সহায়ক হবে। সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনাও স্থান পায়।

পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে চলমান প্রশিক্ষণ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে থাই রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে একটি রন্ধনসম্পর্কীয় প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, প্রতিমন্ত্রী যৌথ প্রদর্শনী ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত আরও জানান যে, জুলাই মাসে ঢাকায় থাই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

বৈঠকে বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়, বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সহায়তা কামনা করে বাংলাদেশ।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ হয়।

Exit mobile version