বগুড়ার দীর্ঘ দিনের রেলওয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ‘বগুড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বর্তমানে রেলওয়ে জাদুঘরের মূখ্য আকর্ষণ হিসেবে সকলের নজরে এসেছে। বগুড়া শহরের জংশন স্টেশন প্ল্যাটফর্মে এটি স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৩০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বগুড়ার ঐতিহাসিক রেল ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরছে এই দৃষ্টিনন্দন ট্রেন।

মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুর থেকে এই ঐতিহাসিক ট্রেনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকেই ট্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য ভিড় করছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য এবং বগুড়ার ইতিহাস নতুনভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৩ সালে সান্তাহার থেকে বগুড়া পর্যন্ত ৩/৪ ফুটের ন্যারোগেজ লাইন স্থাপিত হয়। একই সময়ে ভারতের কোচবিহারের স্টিফেনসন অ্যান্ড কোং নামের একটি প্রকৌশল সংস্থা দুটি লোকোমোটিভ ইঞ্জিন নির্মাণ করে। এর মধ্যে একটি ব্রিটিশ সরকার এবং অন্যটি স্থানীয় মহারাজারা ব্যবহার করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৪১ সাল) শুরুর পর ইস্ট বেঙ্গল কোম্পানি একটি ইঞ্জিন যুক্তরাজ্যে নিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালে বগুড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সেই ব্রিটিশ আমলের ইঞ্জিন এবং একটি কোচ বগুড়া স্টেশন প্ল্যাটফর্মে রেলওয়ে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে এবং এটি ‘বগুড়া এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি এখন বগুড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচতি পেয়েছে।

বগুড়া রেলওয়ে আধুনিকীকরণ প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, এই ইঞ্জিন এবং বগিটি ব্রিটিশ আমলের, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় এটিকে ‘বগুড়া এক্সপ্রেস’ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীকে বলেছেন, ব্রিটিশ আমলের এই ইঞ্জিনটি ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করা হয়েছে। এটি বগুড়ার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।

Exit mobile version