Saturday, September 12

রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই রোজা পালন করেন না, বরং সংযত জীবনযাপন, চিন্তার বিশুদ্ধতা এবং আচরণের নিয়ন্ত্রণকেও রোজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করেন। রোজা রাখা অবস্থায় হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ কিংবা আপত্তিকর চিন্তা ও দৃশ্যের কারণে বীর্যপাত হলে রোজার কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো।

যদি কেউ স্বেচ্ছায় হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটান, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে রমজান মাস শেষ হওয়ার পর এই রোজার কাজা আদায় করা জরুরি। তবে এর জন্য কোনো কাফফারা প্রযোজ্য হবে না।

অন্যদিকে, ঘুমন্ত অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষের কারণে বীর্যপাত ঘটে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট স্বপ্ন মনে না থাকলেও ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হয়, তবে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এটি যেহেতু মানুষের ইচ্ছাধীন নয়, তাই এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত ঘটনা রোজার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

রোজা রাখা অবস্থায় অশালীন দৃশ্য দেখা বা কুরুচিপূর্ণ চিন্তা করার পাশাপাশি যদি হস্তমৈথুন করা হয় এবং ফলস্বরূপ বীর্যপাত ঘটে, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে। কিন্তু শুধু আপত্তিকর চিন্তা করা বা অশ্লীল দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা ভঙ্গ হবে না। অবশ্য, একজন রোজাদারের জন্য এই ধরনের কর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রসঙ্গে, তাবেঈ আলেম হজরত জাবের ইবনে জায়েদ (রহ.)-কে এই মর্মে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি কামনাবাসনা নিয়ে তার স্ত্রীর দিকে তাকানোর ফলে বীর্যপাত ঘটিয়ে ফেলে, তবে তার রোজা ভাঙবে কিনা। তিনি উত্তরে জানান যে, রোজা ভাঙবে না এবং ঐ ব্যক্তি তার রোজা পূর্ণ করবে। এই বিষয়টি ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা’ গ্রন্থে (৬২৫৯) উল্লেখ করা হয়েছে: “সُئِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ رَجُلٍ نَظَرَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَمْنَى، قَالَ: يُتِمُّ صَوْمَهُ” যার অর্থ হলো—’হজরত জাবের ইবনে জায়েদকে জিজ্ঞাসা করা হলো—এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বীর্যপাত করেছে; তার রোজা কি ভেঙে গেছে? তিনি বললেন, না; সে তার রোজা পূর্ণ করবে।’

পবিত্র কুরআনে রোজার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তাকওয়া অর্জন ও আত্মসংযমের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-বাক্বারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” যেসব কাজ স্বাভাবিক অবস্থায়ই পাপ হিসেবে গণ্য, রোজা অবস্থায় সেগুলোর গুরুতরতা আরও বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, রোজার পূর্ণ সওয়াব নিশ্চিত করতে প্রতিটি মুসলমানের জন্য দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকে পরিশুদ্ধ রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য।

Exit mobile version