বিএনপি মনোনীত ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জনগণের পাশে থেকে আজীবন তাদের সেবা করার এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য জীবন উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা বজায় রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে হবে। প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আর কে মিশন রোডের নীড় ছায়াবীথি এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তার রাজনীতির মূল প্রেরণা হিসেবে তার বাবাকে উল্লেখ করেন, যাকে তিনি তার রোল মডেল এবং হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার পিতার মতো তিনিও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান বলে জানান।

ইশরাক হোসেন ২০২৩ সালের পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মন্তব্য করেন যে, ‘কথার ফুলঝুরি দিয়ে’ ভোটারদের আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। তিনি ২৪ সালের ‘রক্তাক্ত গণ অভ্যুত্থানের’ উদ্দেশ্য হিসেবে ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার’ কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রাজনীতিকে কলুষিত অবস্থা থেকে মুক্ত করে দেশ ও জাতির কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বিগত ১৭ বছরে ‘মেগা প্রজেক্ট ও উন্নয়ন’ সত্ত্বেও ঢাকার যানজট, দূষণ, জলাবদ্ধতা, মশাবাহিত রোগ এবং গ্যাস সংকটের মতো সমস্যাগুলো অক্ষুণ্ণ থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে তিনি ‘রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হবে’ এমন মিথ্যা আশা দেবেন না বলে স্পষ্ট জানান। তবে, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে বা প্রয়োজনে সংসদে উত্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

নাগরিক অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, এই এলাকার প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ জনগণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কেউ মাইনরিটি নন, সবাই বাংলাদেশি’। ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব নির্বিশেষে ‘আমাদের দেশ সবার’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রত্যেক মহিলা কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে মহিলারাই থাকবেন। আইডেন্টিটি যাচাইয়ের পর ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং এজন্য তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন।

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইশরাক হোসেন বলেন, এই আসনে ৫১.৬ শতাংশ ভোটার নারী। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী নেতৃত্ব পুনর্জাগরণের দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নারীদের আরও বেশি করে মতবিনিময় সভা, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং নারীর সমান অধিকারে শতভাগ বিশ্বাসী বলে নিশ্চিত করেন, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায় ওয়ারী থানা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ এবং যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মুক্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Exit mobile version