পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করেছে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।

দিবসটি পালনে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ করেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশুদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সমবেত কণ্ঠে সকলে অমর একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ পরিবেশন করেন।

সকালে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনমিত করা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এছাড়াও ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি খোন্দকার এম তালহার একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিতিদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে।

হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান তার সমাপনী বক্তব্যে ৫২’র ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং এই আন্দোলনকে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দূতাবাস প্রাঙ্গণকে ব্যানার, বাংলা বর্ণমালা এবং ভাষা দিবসের পোস্টার দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছিল। আলোচনা শেষে ভাষাশহীদদের আত্মার শান্তি ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিকেলে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মাধ্যমে সশ্রদ্ধ এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Exit mobile version