টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলসহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী সুজন মিয়া বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের একটি আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একইসঙ্গে, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দায়েরকৃত এই মামলায় সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে আট নম্বর আসামি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভকে প্রধান আসামি করে মোট ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে আট নম্বর আসামি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার’ এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ জোগানদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। সেসময় উল্লিখিত আসামিরা এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জন সন্ত্রাসী লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, পিস্তল, সর্টগান ও রিভলবার নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে আহত করে। এই হামলায় মামলার বাদী সুজন মিয়াও আহত হন।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাহারিম হোসেন সীমান্ত, সাবেক এমপি শুভর ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির এবং ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু মন্তব্য করেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের জনপ্রিয়তা দেখে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সালাউদ্দিন আলমগীর বলেছেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, যারা এতদিন নির্যাতিত ছিল, তারাই এখন দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন প্রার্থীকে ঘায়েল করার এটি একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন এবং নথি এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি।

Exit mobile version