মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় কর্ণফুলী চ্যানেলে ট্যাংকার ভেসেল ‘গ্যাস হারমনি’র ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এই ত্রুটির ফলে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেও, জাহাজের ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে জেটি কাঠামো থেকে প্রায় ৫ ফুট দূরে এটিকে সফলভাবে থামিয়ে দেন। এই জাহাজটি ৫ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলপিজি বহনকারী ‘গ্যাস হারমনি’ একটি বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে যাচ্ছিল। ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের তাৎক্ষণিক, দৃঢ় সিদ্ধান্ত, বুদ্ধিমত্তা এবং অসীম সাহসিকতার কারণে তিনি জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক ১.২ মিটার দূরত্বে জাহাজটি থামাতে সক্ষম হন। তাঁর এই দক্ষতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর একটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় এবং এতে বন্দরের সুনাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

বন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্যাস হারমনি’ জাহাজটি ৫ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার পৌনে ১১টায় ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে বার্থিংয়ের উদ্দেশ্যে জাহাজটি কর্ণফুলী চ্যানেলে প্রবেশ করে। এই টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে অবস্থিত। জাহাজটিতে ৫১৫ টন প্রোপেন এবং ৪ হাজার ৫৭০ টন বিউটেন গ্যাস ছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায় যে, বার্থিংয়ের সময় ১৫৯.৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই মুহূর্তে ক্যাপ্টেন দ্রুত জাহাজের নোঙর ও টাগবোট ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেন। তাঁর সময়োপযোগী ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলস্বরূপ জাহাজের গতি কমে আসে এবং দিক পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যন্ত জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক ১.২ মিটার দূরত্বে জাহাজটি থামতে সক্ষম হয়। অন্যথায়, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে জানমালের পাশাপাশি জেটি এবং চ্যানেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

বহির্নোঙর থেকে জাহাজটিকে বন্দর চ্যানেলে আনার কাজে যুক্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে সময়ে জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, সে মুহূর্তে সরু চ্যানেলে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের দক্ষতা ও দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে জেটিতে আঘাত হানার মাত্র ৫ ফুট আগে জাহাজটি থামানো সম্ভব হয়। তিনি মনে করেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ চালক না থাকলে এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব ছিল।

Exit mobile version