মারামারি ও দোকান ভাঙচুরের একটি মামলায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামকে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য চারজন খালাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সন্ধ্যায় ফয়েজুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি ২০১৭ সালের। সে সময় সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য রশিদ আহমদ টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি ফয়েজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুর, লুটপাট এবং হামলার অভিযোগ এনেছিলেন।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত প্রধান আসামি ফয়েজুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে ফয়েজুল ইসলামকে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রবাল দ্বীপটির সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এই রায় সম্পর্কে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফেজা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দুই বছরের সাজা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। মামলার বাদী রশিদ আহমদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ২০১৭ সালে ফয়েজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা আমার দোকানে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছিল। সেই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত প্রধান আসামিকে সাজা দিয়েছেন।

তবে, মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফয়েজুল ইসলামের পরিবার। তাঁর ভাই রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিহিংসার জেরে তাঁর ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

Exit mobile version